ইরানে যৌথ হামলার ঘটনায় শক্তিধর দেশ ও জোট কে কার পক্ষ নিলো

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬ ০০:০৩ এএম

ইরানে যৌথ হামলার ঘটনায় শক্তিধর দেশ ও জোট কে কার পক্ষ নিলো

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বৈশ্বিক কূটনীতিতে তীব্র মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। একদিকে পশ্চিমা জোটের কয়েকটি দেশ হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ। খবর এপির।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ট্রান্স-অ্যাটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটো জানিয়েছে, তারা ইরান ও আশপাশের অঞ্চলের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জোটের সদস্য দেশগুলো ‘আর্টিকেল ৫’-এর আওতায় একে অপরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাধ্য-অর্থাৎ এক সদস্যের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে জোটের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার কোনো ঘোষণা আসেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের তিন প্রভাবশালী দেশ-যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।

তিন দেশের শীর্ষ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা ইরানের ওপর হামলায় অংশ নেয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। একইসঙ্গে তারা ইরানকে নির্বিচারে হামলা থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা জরুরি। তিনি ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎস বলেও মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত ও উসকানিবিহীন আগ্রাসন বলে আখ্যা দিয়ে কড়া নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

সেই সঙ্গে ইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হামলাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে. মার্কি। মার্কিন রাজনীতিতে এ বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে দেয়া বিস্ফোরক মন্তব্যে মার্কি বলেন, এই হামলার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়া হয়নি এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। তার ভাষায়, ট্রাম্পের অবৈধ পদক্ষেপ একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে।

তাদের অভিযোগ, পারমাণবিক কর্মসূচির অজুহাতে আসলে শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। রাশিয়া সতর্ক করেছে, এই হামলা আঞ্চলিক মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

মিশর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই সামরিক উত্তেজনা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে সর্বাত্মক বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে। কায়রো জোর দিয়ে বলেছে, সামরিক শক্তি প্রয়োগ সমাধান নয়-সংলাপই একমাত্র পথ।

অন্যদিকে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে শেষ পর্যন্ত বেসামরিক মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি সংযম, উত্তেজনা প্রশমন এবং আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানে যৌথ হামলার পর বিশ্ব রাজনীতিতে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-যুক্তিকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যাংশ এটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন কূটনৈতিক তৎপরতা ও সামরিক হিসাব-নিকাশের ওপরই নির্ভর করছে।

এআরএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর