যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলো কেন চরম দোটানায়
আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৩ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক অভিযান জোরদার করায় ইউরোপ এক অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ে গেছে। উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি নাকি বিব্রতকর অবস্থানে দাঁড়ানো-এই দুইয়ের মাঝে দোদুল্যমান ইউরোপীয় দেশগুলো। তারা এখনো ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে পারেনি।
লন্ডন থেকে প্রকশিতবিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপ কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকলেও এবার তাদের ভেতরেই বিভাজন স্পষ্ট। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। আবার আরব প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরান হামলা চালানোর পর যুক্তরাজ্য প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের দিকে ঝুঁকেছে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বৈঠক ইউরোপের সমন্বিত কৌশল গড়ার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে তা স্পষ্ট রূপ পায়নি। তিন দেশই ইরানের আঞ্চলিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে তাদের অবস্থান ভিন্ন।
বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ইরানের বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা সীমিত। রয়্যাল নেভির হাতে বর্তমানে অল্পসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ সক্রিয় রয়েছে। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ব্রিটিশ ঘাঁটি ইতোমধ্যেই ইরানি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ফলে কঠোর অবস্থান নেয়ার রাজনৈতিক ইচ্ছা থাকলেও বাস্তব সামরিক সামর্থ্য প্রশ্নের মুখে।
অন্যদিকে ফ্রান্স ও জার্মানি তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর পক্ষে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের কথা বলছে। তবে সমালোচকদের মতে, ইউরোপের এই দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান তাদেরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবহীন করে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত যত বিস্তৃত হচ্ছে, ইউরোপের জন্য সিদ্ধান্ত তত জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্র, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক স্বার্থও রয়েছে। ফলে ইউরোপ এখন এমন এক কিনারায় দাঁড়িয়ে, যেখানে যেকোনো সিদ্ধান্তই রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
এআরএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: