কাতারে ইরানি বাহিনীর গোপন জাল ফাঁস: দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যখন উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশে আছড়ে পড়ছে, ঠিক তখনই কাতারের ভেতরে আরেক ধরনের হুমকির সন্ধান পায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি চক্রের ১০ জনকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয় দোহা। আর এটি কাতার-ইরান সম্পর্ককে নতুন করে চাপে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, গত মঙ্গলবার কাতার ১০ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তারা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)–এর হয়ে কাজ করা দুটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, সাতজনকে দেশের ভেতরের সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, আর বাকি তিনজনের দায়িত্ব ছিল নাশকতা চালানো।
এর আগে থেকেই নজিরবিহীন হামলার মুখে ছিল কাতার। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করার পর থেকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের আকাশসীমার দিকে বহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার কেবল তাৎক্ষণিক সংঘাতের বিষয় নয়; বরং উপসাগরে ইরানের ঘনিষ্ঠ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত কাতারও যে অনুপ্রবেশের শিকার হয়েছে, সেটিই বড় বার্তা।
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গালফ স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক মাহজুব জুয়েইরি আল জাজিরাকে বলেন, ‘বছরের পর বছর ইরানের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক রাখা, এমনকি পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করা একটি দেশেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে ইরানের কূটনৈতিক বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।’
এরই মধ্যে তেহরান-দোহা সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠেছে। বুধবার রাতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ফোনালাপে কাতার স্পষ্ট জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যে কাতারকে লক্ষ্য করে চালানো হয়নি— এমন দাবি তারা মানছে না; মাঠের প্রমাণও ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এআরএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: