ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার রাশিয়ার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে— এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোন আলাপের সময় রুশ নেতারা এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
তবে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মস্কো নাকি তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য দিয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে সংযত। খবর সিএনবিসি
মঙ্গলবার সিএনবিসি’র ‘মানি মুভার্স’ অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্টিভ উইটকফ বলেন, গত সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে রুশ নেতারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, তারা ইরানের সঙ্গে কোনও গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করেনি। তিনি বলেন, ‘তারা যা বলেছে, আমরা আপাতত সেটাই বিশ্বাস করতে পারি। আশা করি তারা সত্যিই এমন কিছু করছে না।’
এর আগে ওয়াশিংটন পোস্ট গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, মস্কো নাকি তেহরানকে সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যার মধ্যে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্যও ছিল।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া বেশ সংযত। এরপর সোমবার ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়েছে এবং ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে চান বলে পুতিন তাকে জানিয়েছেন। একই সময়ে পুতিন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি ‘অটল সমর্থন’ও প্রকাশ করেন।
এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কিছু তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থায়ন কমাতে এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট এক ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ— উভয়েই রাশিয়াকে বার্তা দিয়েছেন যে যদি সত্যিই তারা ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে থাকে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তারা আশা করছেন এমন কিছু ঘটছে না।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া ব্যবসায়ী স্টিভ উইটকফ বলেন, রাশিয়া যখন এ ধরনের তথ্য ভাগাভাগির অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তখন তাদের বক্তব্য আপাতত বিশ্বাস করা উচিত।
সিএনবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি কোনও গোয়েন্দা কর্মকর্তা নই, তাই নিশ্চিত করে বলতে পারি না’। তিনি আরও বলেন, ‘তবে গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপে রাশিয়ানরা বলেছে তারা এমন কিছু করেনি। সেটাই তাদের বক্তব্য, তাই আপাতত আমরা তাদের কথাই ধরে নিতে পারি।’
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিশেষ করে ভারতের কাছে রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, কারণ অতীতে নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেছিল।
কারোলিন লেভিট বলেন, ‘ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতির কারণে বিশ্বে তেল সরবরাহে যে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেটি সামাল দিতে আমরা অস্থায়ীভাবে তাদের রাশিয়ান তেল গ্রহণের অনুমতি দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপে এই মুহূর্তে রুশ সরকারের বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা হবে বলে আমরা মনে করি না।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ট্রাম্প তার দুই মেয়াদেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেয়ার পর এই সমালোচনা আরও বেড়ে যায়।
তবে ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে পুতিনকে আলোচনায় আনতে তিনি-ই সক্ষম। যদিও ক্ষমতায় আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ যুদ্ধ শেষ করার তার আগের দাবি বাস্তবে সফল হয়নি।
এআরএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: