সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, সমান সদস্য চায় বিরোধী দল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৪ পিএম

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এ বিষয়ে সর্বদলীয় সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তার এ প্রস্তাবের বিপরীতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলছেন, সংস্কার পরিষদ বা এই সংক্রান্ত কোনো কমিটি গঠন করা হলে সেখানে উভয় পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এই কমিটির মাধ্যমে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে সংসদে উত্থাপন করা সম্ভব হবে।

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫) সংসদে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। সংসদে মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ওই আদেশের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিধান রয়েছে। তবে তার মতে, এই পরিষদের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি সংবিধানের ৭২ ও ৭৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ প্রদান করেছেন, যা সংবিধানসম্মত। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুস্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই বলে তিনি মত দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির আদেশ বৈধতা পেয়েছিল এবং পরবর্তীতে সংবিধানের বিভিন্ন তফসিলে তা স্বীকৃতি দেয়া হয়। তবে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান আদেশের আইনগত অবস্থান পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো উদ্যোগ টেকসই হতে পারে না। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস— এ বিষয়টি স্মরণ রেখে যেকোনো সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশ্ন প্রণয়ন ও উপস্থাপনার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা থাকা প্রয়োজন। তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় একত্রে উপস্থাপনের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

এদিকে সংবিধান সংশোধনী নয়, বরং সংস্কার পরিষদের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সদস্য রাখার শর্তে একমত পোষণ করেছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন (মিসকোট) করেছেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দল থেকে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে। আমরা সংকট তৈরি করতে নয়, বরং সমাধান করতে এসেছি। আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন যে, আমরা সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবে একমত হয়েছি। কিন্তু প্রকৃত বিষয়টি হলো, আমরা সংবিধান সংশোধন নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের কথা বলেছি। আমার বক্তব্যে কোনো অস্পষ্টতা ছিল না।’

বিরোধী দলের নেতা স্পষ্ট করে বলেন, সংস্কার পরিষদ বা এই সংক্রান্ত কোনো কমিটি গঠন করা হলে সেখানে উভয় পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকতে হবে। সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে সদস্য নির্ধারণ করা হলে সেখান থেকে ইতিবাচক কোনো ফলাফল আসার সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সমান সদস্য নিশ্চিত করা হলে বিরোধী দল এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারে বলে তিনি জানান।

LIMON

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর